নিচুতলায় আর কোনও বিচ্যুতি নয়! জেলায় জেলায় সংগঠন সামলাতে আসছেন মোদি-শাহের দূতেরা
ক্ষমতায় আসার পর সংগঠনের নিচুতলায় ‘বিচ্যুতি’ ঠেকাতে এবার বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করছে বিজেপি। ১৬ আগস্ট বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে প্রায় ৩৫০ জন জেলা ও রাজ্যস্তরের নেতা প্রশিক্ষণ নেবেন। দলীয় আদর্শ, শৃঙ্খলা ও শাসকদল হিসেবে দায়িত্ব-কর্তব্য নিয়ে বার্তা দেবেন কেন্দ্র ও রাজ্যের শীর্ষ নেতারা।
রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার মাত্র তিন মাসের মধ্যেই সংগঠনের নিচুতলায় ‘বিচ্যুতি’ ঠেকাতে বড়সড় প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করতে চলেছে দল। বিরোধী দল থেকে সরাসরি শাসকদলের ভূমিকায় আসার পর নেতা-কর্মীদের একাংশের কাজকর্ম, দলীয় শৃঙ্খলা এবং আদর্শ নিয়ে বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রশ্ন উঠছে। নিচুতলায় একাধিক ঘটনায় দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে প্রকাশ্যে সতর্কবার্তা দিতেও দেখা গিয়েছে। এবার সেই পরিস্থিতিতেই সংগঠনকে আরও নিয়ন্ত্রিত ও ‘রেজিমেন্টেড’ রাখতে প্রশিক্ষণের পথে হাঁটছে বিজেপি।
আগামী ১৬ আগস্ট বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবির। সেখানে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পাশাপাশি রাজ্যের একাধিক শীর্ষ নেতা প্রশিক্ষকের ভূমিকা পালন করবেন। শিবপ্রকাশ, সুনীল বনশল, মঙ্গল পাণ্ডে এবং অমিত মালব্যদের মতো নেতারা রাজ্য ও জেলাস্তরের নেতৃত্বকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেবেন। রাজ্যের তরফেও শমীক ভট্টাচার্য, অমিতাভ চক্রবর্তী, জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় এবং দীপক বর্মন-সহ একাধিক নেতা প্রশিক্ষক হিসেবে থাকবেন।
এই শিবিরে অংশ নেবেন প্রায় ৩৫০ জন নেতা। তাঁদের মধ্যে থাকবেন সমস্ত জেলা সভাপতি, জেলা ইনচার্জ, সংগঠন থেকে বাছাই করা বিধায়ক, রাজ্য মোর্চার সভাপতি এবং রাজ্য কমিটির সদস্যরা। প্রশিক্ষণ শিবিরের পর এই নেতারাই আবার জেলায় জেলায় গিয়ে দলের অন্যান্য নেতা-কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেবেন।
দলীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, প্রশিক্ষণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে চলেছে দলীয় আদর্শ, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, বর্তমান পরিস্থিতিতে দায়িত্ব ও কর্তব্য এবং নিচুতলায় সম্ভাব্য বিচ্যুতি কীভাবে রোখা যায়। বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের বার্তা, ক্ষমতায় আসার পর দলীয় কর্মীদের আচরণে যেন কোনও ধরনের শিথিলতা বা আদর্শগত বিচ্যুতি না ঘটে।
এতদিন বিজেপি কর্মীরা মূলত বিরোধী দলের ভূমিকায় থেকে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন, প্রতিবাদ এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অভ্যস্ত ছিলেন। এখন পরিস্থিতি বদলেছে। বিজেপিই রাজ্যের শাসকদল। ফলে সরকারের দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি দলের নেতা-কর্মীদেরও নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে হবে। সরকার-বিরোধী আন্দোলনের পরিবর্তে শাসকদল হিসেবে মানুষের সঙ্গে কীভাবে কাজ করতে হবে, কোথায় প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করতে হবে এবং কোথায় দলের অবস্থান স্পষ্ট রাখতে হবে—সেসব বিষয়েও প্রশিক্ষণ দেওয়া হতে পারে।
নিচুতলায় দলীয় কর্মীদের মধ্যে ‘আদর্শহীন’ প্রবণতা বা ব্যক্তিস্বার্থের রাজনীতি যাতে জায়গা না করে নেয়, সেদিকেও বিশেষ নজর দিতে চাইছে বিজেপি নেতৃত্ব। দলের অন্দরে কোনও ধরনের অনিয়ম বা বিচ্যুতির খবর যাতে সংগঠনের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে, সেই বার্তাও প্রশিক্ষণ শিবিরে দেওয়া হবে বলে জানা যাচ্ছে।
কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপস্থিতি এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। শিবপ্রকাশের মতো শীর্ষ সাংগঠনিক নেতা থেকে সুনীল বনশল, মঙ্গল পাণ্ডে এবং অমিত মালব্য—একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মুখ এই শিবিরে ‘শিক্ষক’-এর ভূমিকায় থাকবেন। রাজ্যের শীর্ষ নেতারাও নিজেদের অভিজ্ঞতা দিয়ে জেলা নেতৃত্বকে সাংগঠনিক কাজের খুঁটিনাটি বোঝাবেন।
বিজেপি নিজেদের একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ সংগঠন হিসেবে তুলে ধরে। তাই ক্ষমতায় আসার পরও দলের আদর্শ ও সাংগঠনিক কাঠামো যাতে দুর্বল না হয়, তার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। শুধু জেলা নেতৃত্বকে প্রশিক্ষণ দিয়েই থেমে না থেকে সেই প্রশিক্ষণকে নিচুতলার কর্মীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0