দেশপ্রিয় পার্কে মণ্ডপে ভাঙচুর! পুজো কি এবার অনিশ্চিত? মুখ খুললেন রাসবিহারীর বিধায়ক

দেশপ্রিয় পার্কের বালিগঞ্জ সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির মণ্ডপ ভাঙচুরের অভিযোগ ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। পুজো কমিটির অভ্যন্তরীণ বিবাদের মাঝেই ঘটেছে এই ঘটনা। পুজোর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও রাসবিহারীর বিধায়ক স্বপন দাশগুপ্ত জানিয়েছেন, বিষয়টি কমিটির অভ্যন্তরীণ বিবাদ এবং তিনি পুজোকে রাজনীতিমুক্ত রাখার পক্ষপাতী।

Aug 14, 2026 - 14:44
 0  20
দেশপ্রিয় পার্কে মণ্ডপে ভাঙচুর! পুজো কি এবার অনিশ্চিত? মুখ খুললেন রাসবিহারীর বিধায়ক

দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম পরিচিত পুজো দেশপ্রিয় পার্কের বালিগঞ্জ সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতি ঘিরে এবার তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। পুজো কমিটির মণ্ডপ ভাঙচুরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠেছে, নির্ধারিত সময়ে আদৌ কি পুজোর আয়োজন সম্ভব হবে? এবার ৮৯তম বছরে পা দিতে চলেছে এই ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপুজো। তার আগেই কমিটির অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ, মণ্ডপ ভাঙচুরের অভিযোগ এবং পার্ক বন্ধ রাখার ঘটনায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে।

জানা গিয়েছে, বালিগঞ্জ সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির কমিটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দুই পক্ষের মধ্যে মতানৈক্য রয়েছে। এক পক্ষের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কয়েকজন পুজো কমিটির নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছিলেন। বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজনৈতিক পালাবদলের প্রেক্ষিতে স্থানীয়দের একাংশ পুরনো কমিটির কর্তৃত্ব মানতে নারাজ বলে দাবি। এই টানাপোড়েনের মধ্যেই দেশপ্রিয় পার্কে পুজোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল।

এবার পুজোর জন্য প্রায় ৭০ ফুটের একটি মণ্ডপ তৈরির পরিকল্পনা ছিল। গত ২৮ জুন খুঁটিপুজোর মাধ্যমে শুরু হয় প্রস্তুতি। পার্কে সাধারণ মানুষের প্রবেশও বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং দ্রুত গতিতে মণ্ডপ তৈরির কাজ এগোতে থাকে। কিন্তু অভিযোগ, গত ৯ আগস্ট রাতে আচমকাই সেখানে একদল যুবক এসে মণ্ডপে ভাঙচুর চালায়।

পুজো কমিটির অভিযোগ, রাত আটটা নাগাদ প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন বহিরাগত যুবক মণ্ডপ এলাকায় ঢুকে পড়ে। কাউকে কিছু না জানিয়েই তাঁরা মণ্ডপের বিভিন্ন অংশে ভাঙচুর শুরু করেন। অভিযোগ, বেশ কিছুক্ষণ তাণ্ডব চালানোর পর তাঁরা এলাকা ছেড়ে চলে যান। এই ঘটনার পর ১১ আগস্ট রবীন্দ্র সরোবর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।

ঘটনার পর থেকেই দেশপ্রিয় পার্কে সাধারণ মানুষের প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে পুজোর প্রস্তুতি এবং মণ্ডপ নির্মাণের কাজ কীভাবে এগোবে, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম জনপ্রিয় এই পুজোকে ঘিরে এমন পরিস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

তবে মণ্ডপ ভাঙচুরের অভিযোগ নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন রাসবিহারীর বিধায়ক স্বপন দাশগুপ্ত। তাঁর দাবি, মণ্ডপ সম্পূর্ণ ধ্বংস বা কোনও কিছু ভেঙে দেওয়ার ঘটনা ঘটেনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দেশপ্রিয় পার্কের পুজোকে ঘিরে মূল সমস্যা দুই কমিটির মধ্যে চলা বিবাদ।

বিধায়ক আরও জানিয়েছেন, প্রায় ১০-১২ দিন আগে কলকাতা পুরসভার তরফে বিভিন্ন জায়গায় নোটিস দেওয়া হয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলির স্ট্যাটাস জানতে চাওয়া হয়েছিল। একইসঙ্গে বেআইনি নির্মাণ সংক্রান্ত একটি মামলাও আদালতে চলছে বলে তিনি জানিয়েছেন। এই সমস্ত বিষয় থেকে নিজেকে দূরে রাখার কথাও স্পষ্ট করেছেন তিনি।

দুর্গাপুজোর সঙ্গে রাজনীতির যোগ নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন স্বপন দাশগুপ্ত। তাঁর বক্তব্য, দুর্গাপুজো কমিটিগুলির অরাজনীতিকরণ হওয়া উচিত। এমনকি তাঁকে পুজো কমিটির সভাপতি করার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি বলে জানিয়েছেন বিধায়ক। তাঁর বক্তব্য, তিনি সব দুর্গাপুজোয় যাবেন, কিন্তু কোনও পুজো কমিটির সঙ্গে যুক্ত থাকবেন না।

কমিটির অভ্যন্তরীণ বিবাদ থাকলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলিকেই নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে তা মিটিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি পুজোর মতো সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত না আনার পক্ষেও সওয়াল করেছেন রাসবিহারীর বিধায়ক।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 1
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0