‘দুর্নীতির হিসেব হবেই, তবে অগ্রাধিকার পাবে যোগ্যদের পরিষেবা’, পঞ্চায়েতের কাজ নিয়ে বার্তা দিলেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ
পঞ্চায়েত স্তরে দুর্নীতির তদন্ত চলবে, তবে সরকারের অগ্রাধিকার যোগ্য উপভোক্তাদের পরিষেবা দেওয়া। আবাস যোজনা ও শৌচালয় প্রকল্প নিয়ে বড় বার্তা দিলীপ ঘোষের।
পঞ্চায়েত স্তরে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত থেমে থাকবে না। তবে আপাতত সরকারের প্রধান লক্ষ্য সরকারি প্রকল্পের সুবিধা দ্রুত প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া। বিশেষ করে আবাস যোজনায় যোগ্য হয়েও যাঁরা এখনও বাড়ি পাননি, তাঁদের দ্রুত সুবিধা দেওয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানালেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
মঙ্গলবার কোলাঘাটে পঞ্চায়েত ও গ্রামীণ উন্নয়ন দফতরের বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠক হয়। বৈঠকের পর মন্ত্রী জানান, বিভিন্ন এলাকায় উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজ কতটা এগিয়েছে, কোথায় কাজ থমকে রয়েছে এবং কোন সমস্যার কারণে গতি কমেছে—সেগুলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, যে সমস্ত এলাকায় কাজের অগ্রগতি তুলনামূলক কম, সেখানে দ্রুত কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী এক-দু’দিনের মধ্যেই বেশ কিছু প্রকল্পের কাজের গতি বাড়বে বলেও দাবি করেন তিনি।
আবাস যোজনায় অনিয়ম নিয়ে কড়া অবস্থান
আবাস যোজনায় অনিয়মের অভিযোগ নিয়েও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী। তাঁর দাবি, যোগ্য না হওয়া সত্ত্বেও বেশ কিছু মানুষ সরকারি আবাস প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন। এই ধরনের সুবিধাভোগীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, প্রায় সাড়ে ১২ হাজার জনকে ইতিমধ্যেই নোটিস পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। তাঁদের মধ্যে প্রায় এক হাজার জন সরকারি অর্থ ফেরতও দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত চলবে এবং কোথায় কী ধরনের দুর্নীতি হয়েছে, তার হিসাবও নেওয়া হবে। একইসঙ্গে পঞ্চায়েত দফতরের পক্ষ থেকে বিশেষ অডিটের কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।
তবে মন্ত্রীর কথায়, দুর্নীতির তদন্তের পাশাপাশি বর্তমানে সরকারের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হল প্রকৃত উপভোক্তাদের পরিষেবা দেওয়া। যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও যাঁরা আবাস যোজনার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, তাঁদের দ্রুত বাড়ি দেওয়ার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
পড়ে থাকা টাকা দ্রুত কাজে লাগানোর নির্দেশ
বিভিন্ন ব্লকে উন্নয়নমূলক প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ অর্থ পড়ে থাকা নিয়েও এদিনের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। বরাদ্দ অর্থ যাতে দীর্ঘদিন অব্যবহৃত অবস্থায় না থাকে এবং সঠিক প্রকল্পে দ্রুত কাজে লাগে, সে বিষয়ে আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দিলীপ ঘোষ জানান, সরকারি প্রকল্পের ক্ষেত্রে শুধু টাকা বরাদ্দ করাই যথেষ্ট নয়। প্রকৃত উপভোক্তার কাছে পরিষেবা পৌঁছনো এবং প্রকল্পের বাস্তবায়নই সরকারের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
শৌচালয় তৈরিতে বদল অর্থ দেওয়ার নিয়মে
গ্রামাঞ্চলে শৌচালয় নির্মাণের কাজ দ্রুত শেষ করতে অর্থ প্রদানের পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনার কথা জানিয়েছেন মন্ত্রী।
আগের নিয়মে শৌচালয় নির্মাণ শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সুবিধাভোগীকে টাকা দেওয়া হত। নতুন ব্যবস্থায় কাজ শুরু করার সময়ই মোট বরাদ্দ অর্থের ৫০ শতাংশ দেওয়া হবে। নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পর বাকি অর্থ দেওয়া হবে।
সরকারের আশা, এই পদ্ধতিতে যেসব এলাকায় অর্থের অভাবে বা অন্য কোনও কারণে শৌচালয় তৈরির কাজ আটকে রয়েছে, সেগুলি দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
মন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, একদিকে পঞ্চায়েত স্তরে অনিয়মের বিরুদ্ধে তদন্ত ও অডিট চলবে, অন্যদিকে সরকারি প্রকল্পের পরিষেবা যাতে প্রকৃত মানুষের কাছে দ্রুত পৌঁছে যায়, সেই লক্ষ্যেই প্রশাসনিক কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0