মেসিকে নিশানা করে জঙ্গি হামলার ছক! বিশ্বকাপ ঘিরে ফাঁস মার্কিন পুলিশের গোপন রিপোর্ট

বিশ্বকাপ চলাকালীন লিয়োনেল মেসি ও আর্জেন্টিনা দলকে নিশানা করে হামলার হুমকি! ফাঁস হওয়া মার্কিন পুলিশের রিপোর্টে উঠে এল একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য।

Aug 8, 2026 - 11:53
 0  5
মেসিকে নিশানা করে জঙ্গি হামলার ছক! বিশ্বকাপ ঘিরে ফাঁস মার্কিন পুলিশের গোপন রিপোর্ট

ফুটবল বিশ্বকাপ চলাকালীন লিয়োনেল মেসিকে লক্ষ্য করে বড়সড় জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল! শুধু মেসি নন, নিশানায় ছিলেন আর্জেন্টিনা-সহ বিভিন্ন দেশের ফুটবলার, ফিফার আধিকারিক, রেফারি এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশকর্মীরাও। বিশ্বকাপ চলাকালীন একের পর এক হুমকি পাওয়ার পর পরিস্থিতি সামাল দিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।

মার্কিন পুলিশের একটি গোপন রিপোর্টের কিছু অংশ সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে। স্পেনের সংবাদমাধ্যম ‘ইনফরমেসিয়ন.ইএস’-এর প্রতিবেদনে ফাঁস হওয়া নথির বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। সেই রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বকাপের সময় সম্ভাব্য জঙ্গি হামলা নিয়ে যথেষ্ট উদ্বেগে ছিল মার্কিন প্রশাসন। হুমকি ইমেল ও ফোনকলের সংখ্যা বাড়তে থাকায় নিরাপত্তা সংস্থাগুলিকেও বিশেষ সতর্ক থাকতে হয়েছিল।

আর্জেন্টিনা-জর্ডন ম্যাচ ঘিরে বড় হামলার আশঙ্কা

ফাঁস হওয়া রিপোর্টে সবচেয়ে গুরুতর হুমকির উল্লেখ রয়েছে আর্জেন্টিনা ও জর্ডনের ম্যাচকে কেন্দ্র করে। এক ব্যক্তি ফোন করে দাবি করেছিলেন, তিনি আরও দু’জনকে সঙ্গে নিয়ে স্টেডিয়ামে ঢুকবেন। তাঁদের কাছে থাকবে বাড়িতে তৈরি বিস্ফোরক এবং এআর-১৫ রাইফেল। উদ্দেশ্য ছিল মেসি-সহ আর্জেন্টিনা দলের সদস্যদের উপর হামলা চালানো।

ডালাস বিমানবন্দরে ফোন করেও হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে। শুধু আর্জেন্টিনার ফুটবলার নয়, প্রতিপক্ষ দলের খেলোয়াড় এবং কর্মকর্তারাও তাঁদের টার্গেট বলে দাবি করা হয়েছিল। এমনকি পুলিশকেও হামলার হুমকি দেওয়া হয়। তবে মেসিকেই প্রধান লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।

‘চারটি বোমা’ নিয়ে স্টেডিয়ামে ঢোকার হুমকি

আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচের আগেও তৈরি হয়েছিল আতঙ্কের পরিবেশ। ম্যাচ শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ আগে সমাজমাধ্যমে এক ব্যক্তি দাবি করেন, শরীরে চারটি বোমা বেঁধে আটলান্টার স্টেডিয়ামে ঢুকে বিস্ফোরণ ঘটাবেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল মেসি।

এর পাশাপাশি ম্যাচের দিনই এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি পুলিশকে ফোন করে স্টেডিয়ামের ভিতরে তিনটি জায়গায় বিস্ফোরক রাখা রয়েছে বলে দাবি করেন। স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি।

তদন্তে নামে এফবিআইও

একাধিক হুমকির ঘটনা সামনে আসার পর কোনও বিষয়কেই ঝুঁকি নিয়ে দেখেনি মার্কিন প্রশাসন। স্থানীয় পুলিশের পাশাপাশি তদন্তে যুক্ত করা হয় এফবিআইকেও। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সহযোগিতার জন্য সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পুলিশ কোয়াপারেশনের সাহায্যও নেওয়া হয়েছিল বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে।

ফাঁস হওয়া তথ্য অনুযায়ী, বেশিরভাগ হুমকির কেন্দ্রেই ছিলেন মেসি। তাঁর পাশাপাশি আর্জেন্টিনা দল, বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া অন্যান্য দল, ফিফা কর্তা, রেফারি এবং পুলিশকেও হুমকি দেওয়া হয়েছিল। মেসির বিপুল জনপ্রিয়তাই তাঁকে হামলাকারীদের প্রধান লক্ষ্য করে তুলেছিল বলে তদন্তকারীদের অনুমান।

রোনাল্ডোকেও ঘিরে বাড়ে নিরাপত্তা

শুধু মেসি নয়, ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর নিরাপত্তা নিয়েও সতর্ক হয়েছিল কর্তৃপক্ষ। ফিফার এক কর্মীকে এক সন্দেহজনক ব্যক্তি রোনাল্ডো কখন, কোথায় থাকবেন—এই সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানতে চেয়েছিলেন বলে রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে।

ওই ব্যক্তি সরাসরি কোনও হুমকি না দিলেও বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানানো হয়। বিশ্বকাপ চলাকালীন হিউস্টন, টরন্টো এবং মায়ামিতে রোনাল্ডোর নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছিল। রোনাল্ডোর কাছাকাছি পৌঁছনোর চেষ্টা করা কয়েকজনকে নিরাপত্তার কারণে দূরে রাখা হয়।

এমনকি পর্তুগাল দলের টিম হোটেলেও এক সন্দেহজনক ব্যক্তি ঢুকে পড়েছিলেন। পরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। তবে ঠিক কোন জায়গায় ঘটনাটি ঘটেছিল, ফাঁস হওয়া রিপোর্টে তার উল্লেখ নেই।

এমবাপেকেও ঘিরে সতর্কতা

ফ্রান্সের তারকা কিলিয়ান এমবাপের নিরাপত্তাও বিশ্বকাপ চলাকালীন বাড়ানো হয়েছিল। একাধিকবার অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা তাঁর কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে তাঁর চলাফেরার ক্ষেত্রেও নিরাপত্তা বলয় আরও শক্ত করা হয়।

রেফারিদেরও দেওয়া হয়েছিল হুমকি

শুধু ফুটবলাররাই নন, বিশ্বকাপের সঙ্গে যুক্ত রেফারিরাও হুমকির বাইরে ছিলেন না। আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচ পরিচালনাকারী ফরাসি রেফারি ফ্রান্সিয়স লেক্সিয়ঁর কাছে হোয়াটসঅ্যাপে ছ’হাজারেরও বেশি হুমকি বার্তা পৌঁছেছিল বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে।

ওই ম্যাচের ভিডিয়ো অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারিকেও খুনের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। বিশ্বকাপের সঙ্গে যুক্ত আরও বেশ কয়েকজন রেফারি ও আধিকারিক হুমকি ইমেল এবং বার্তা পেয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে।

ফাঁস হওয়া রিপোর্ট ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, বিশ্বকাপের মতো আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসর চলাকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর কী ধরনের চাপ তৈরি হয়েছিল। মেসি-রোনাল্ডো-এমবাপের মতো তারকাদের পাশাপাশি খেলোয়াড়, রেফারি ও কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একাধিক সংস্থাকে একসঙ্গে কাজ করতে হয়েছিল।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0