ছ’বছর পর বিজেপি-অকালি জোটের জল্পনা, মোদীর সঙ্গে বৈঠকে সুখবীর
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সুখবীর বাদলের বৈঠকের পর ফের বিজেপি ও শিরোমণি অকালি দলের জোটের জল্পনা শুরু হয়েছে। পঞ্জাবের আগামী বিধানসভা ভোটের আগে নতুন সমীকরণ?
প্রায় ছ’বছর পর ফের বিজেপি ও শিরোমণি অকালি দলের (SAD) জোটের সম্ভাবনা ঘিরে জল্পনা শুরু হয়েছে জাতীয় রাজনীতিতে। মঙ্গলবার সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে অকালি দলের প্রধান তথা পঞ্জাবের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী সুখবীর সিংহ বাদলের বৈঠকের পরেই এই জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে।
প্রায় আধ ঘণ্টার ওই বৈঠকের পর অবশ্য মোদী বা সুখবীর— কোনও পক্ষই প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি। তবে এই সাক্ষাৎকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন সমীকরণের আলোচনা শুরু হয়েছে। পঞ্জাবের শাসকদল আম আদমি পার্টি (আপ) অবশ্য এই বৈঠক নিয়ে বিজেপি ও অকালি দলকে কটাক্ষ করেছে।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে কেন্দ্রের তিনটি কৃষি আইনকে কেন্দ্র করে এনডিএ জোট ছেড়েছিল শিরোমণি অকালি দল। সেই সময় সুখবীর বাদলের স্ত্রী হরসিমরত কউর বাদল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা থেকেও ইস্তফা দিয়েছিলেন।
এর পর ২০২২ সালের পঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনে দুই দলই আলাদা ভাবে লড়াই করে বড় ধাক্কা খায়। ১১৭ আসনের বিধানসভায় শিরোমণি অকালি দল, বহুজন সমাজ পার্টির (বিএসপি) সঙ্গে জোট করেও মাত্র তিনটি আসনে জয় পায়। অন্যদিকে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিংহের পঞ্জাব লোক কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করেও বিজেপি মাত্র দু’টি আসনে জিততে সক্ষম হয়।
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও আলাদা পথে হেঁটে বিশেষ সুবিধা করতে পারেনি দুই দল। পঞ্জাবের ১৩টি লোকসভা আসনের মধ্যে শিরোমণি অকালি দল একটি আসনে জয় পায়, অন্যদিকে বিজেপির ঝুলি ছিল শূন্য। সেই নির্বাচনে কংগ্রেস সাতটি এবং আম আদমি পার্টি একটি আসনে জয়ী হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, পর পর নির্বাচনী ব্যর্থতার পর আগামী বিধানসভা ভোটের আগে ফের জোটের পথে হাঁটতে পারে বিজেপি ও অকালি দল। ২০২৭ সালের পঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে দুই দলের কাছেই এই সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
তবে অকালি দলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিও সুখবীর বাদলের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। গত কয়েক বছরে দলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেতা তাঁর নেতৃত্বের বিরোধিতা করে আলাদা অবস্থান নিয়েছেন। অকাল তখ্তের প্রাক্তন জাঠেদার জ্ঞানী হরপ্রীত সিংহ, শিরোমণি গুরুদ্বার প্রবন্ধক কমিটির প্রাক্তন সভাপতি বিবি জাগির কউর, প্রাক্তন সাংসদ প্রেম সিংহ চান্দুমাজরা এবং প্রাক্তন বিধায়ক গুরপ্রতাপ সিংহ ওয়াডলার মতো নেতারা সুখবীরের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
ফলে বিজেপির সঙ্গে সম্ভাব্য জোটের পাশাপাশি দলের অভ্যন্তরীণ ঐক্য ফেরানোও সুখবীর বাদলের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0