‘এই বছর ১০ কোটি গাছ লাগাব’, সবুজ স্বাধীনতার ডাক শুভেন্দুর
মোহরকুঞ্জে বৃক্ষরোপণ করে রাজ্যজুড়ে ‘সবুজ স্বাধীনতা’র বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এ বছর ১০ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্য ঘোষণা।
স্বাধীনতার ৮০তম বর্ষকে সামনে রেখে রাজ্যজুড়ে বড়সড় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ‘সবুজ স্বাধীনতা’র বার্তা দিয়ে মোহরকুঞ্জে গাছের চারা রোপণ করে কর্মসূচির সূচনা করেন তিনি। একই সঙ্গে ‘মায়ের নামে একটি গাছ’ কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।
শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, শুধু গাছ লাগিয়ে কর্মসূচি শেষ করে দিলে হবে না। চারাগাছগুলির নিয়মিত পরিচর্যা এবং সুরক্ষার উপরও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। তাঁর বক্তব্য, বনাঞ্চল তৈরির পথে অর্থ কোনও বাধা হবে না। নতুন করে লাগানো গাছগুলির রক্ষণাবেক্ষণের জন্যও নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ব্যবস্থা রাখা হবে।
এ বছর ১০ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্য
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, চলতি বছর গোটা রাজ্যে ১০ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, উত্তরপ্রদেশ যদি এক বছরে ২৬ কোটি গাছ লাগানোর উদ্যোগ নিতে পারে, তাহলে পশ্চিমবঙ্গও বড় পরিসরে বৃক্ষরোপণ করতে সক্ষম।
প্রধানমন্ত্রীর দফতরের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ইতিমধ্যেই রাজ্যে দ্রুত গতিতে বৃক্ষরোপণের কাজ এগোচ্ছে।
ভবানীপুরে বিশেষ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি
শহর কলকাতাতেও বড় আকারে বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, শুধু ভবানীপুর এলাকাতেই প্রায় ৫০ হাজার গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বৃহত্তর কর্মসূচির আওতায় ভবানীপুরে মোট এক লক্ষ বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
এই কর্মসূচির আর্থিক ব্যয়ের বড় অংশ পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতর বহন করছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
গাছ লাগানোর পাশাপাশি পরিচর্যায় জোর
বৃক্ষরোপণ নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর বার্তা, ছবি তুলে বা আনুষ্ঠানিকতা পালন করলেই দায়িত্ব শেষ হবে না। একটি চারা গাছ বড় হয়ে ওঠার জন্য নিয়মিত জল দেওয়া, পরিচর্যা এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
সরকারের পক্ষ থেকে কয়েক বছর ধরে গাছগুলির রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে বলে জানান তিনি। ফলে শুধু সংখ্যার বিচারে নয়, লাগানো গাছগুলির বেঁচে থাকার হারও এই কর্মসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।
‘মায়ের নামে একটি গাছ’ কর্মসূচি
বৃক্ষরোপণের সঙ্গে আবেগের যোগ তৈরি করতে ‘মায়ের নামে একটি গাছ’ কর্মসূচির কথাও তুলে ধরা হয়েছে। সাধারণ মানুষকে এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত করে পরিবেশ রক্ষার বার্তা আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে চলতি বছর রাজ্যে বিপুল সংখ্যক নতুন গাছ যুক্ত হবে। পরিবেশ রক্ষা, সবুজায়ন এবং বনাঞ্চল বৃদ্ধির পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য স্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি করাই এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য বলে জানানো হয়েছে।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0