উন্নয়নে ১৬১০ কোটি বরাদ্দ, বাঁকুড়ায় বৈঠকে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর
পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নে ১৬১০ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা শুভেন্দু অধিকারীর। ৭৪টি ব্লকে পরিকাঠামো উন্নয়ন, পানীয় জল, স্কুল ও পঞ্চায়েত এলাকায় একাধিক প্রকল্পের পরিকল্পনা।
পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলির পরিকাঠামো ও নাগরিক পরিষেবার উন্নয়নে বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দের ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার বাঁকুড়ায় পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, পর্ষদের আওতাধীন এলাকার উন্নয়নে মোট ১৬১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৬০০ কোটি টাকা বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে খরচ করা হবে।
বাঁকুড়া জেলা পরিষদের অডিটোরিয়ামে প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে বৈঠক হয়। সেখানে রাজ্যের মন্ত্রী, বিধায়ক, প্রশাসনিক আধিকারিক এবং ইঞ্জিনিয়াররা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে পশ্চিমাঞ্চলের পিছিয়ে থাকা এলাকাগুলিতে দ্রুত উন্নয়নমূলক কাজ শুরু করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
৭৪টি ব্লকে পরিকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদের আওতায় থাকা ৭৪টি ব্লকে বিভিন্ন পরিকাঠামোগত কাজ করা হবে। মোট বরাদ্দের মধ্যে প্রায় ১০ কোটি টাকা বেতন ও অন্যান্য প্রশাসনিক খাতে ব্যয় হবে। বাকি অর্থ রাস্তা, শিক্ষা, পানীয় জল, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় পরিকাঠামো উন্নয়নে ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে।
পুজোর পর প্রতিটি পঞ্চায়েত এলাকায় প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার উন্নয়নমূলক কাজ শুরু করার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে। স্কুলে শৌচাগার, শ্রেণিকক্ষে পাখা বসানো, আইসিডিএস কেন্দ্রের উন্নয়ন-সহ বিভিন্ন প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
বিশেষ নজর দেওয়া হবে নয়াগ্রাম ও বান্দোয়ানের মতো অপেক্ষাকৃত পিছিয়ে থাকা ব্লকগুলিতে।
ঝাড়গ্রামে নতুন অফিস, সিউড়িতে ক্যাম্প
পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদের প্রশাসনিক পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। ঝাড়গ্রামে পর্ষদের নতুন অফিস তৈরি করা হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি বোলপুরের অফিস চালু রাখার পাশাপাশি সিউড়িতে বীরভূম জেলা পরিষদ ভবনে একটি ক্যাম্প অফিস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
আগামী তিন মাসের মধ্যে উন্নয়ন প্রকল্পের পরিকল্পনা তৈরি করে কাজ শুরু করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়।
পানীয় জল প্রকল্পেও জোর
জলজীবন মিশনের আওতায় অসম্পূর্ণ থাকা বিভিন্ন প্রকল্প দ্রুত শেষ করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, আগের সরকারের আমলে বহু জায়গায় পাইপলাইন বসানো হলেও বাড়িতে জল পৌঁছয়নি। পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদের অর্থ ব্যবহার করে এই ধরনের অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার আওতায় ২৫ লক্ষ বাড়ি নির্মাণ এবং পিএম সূর্যঘর প্রকল্পের মাধ্যমে পাঁচ লক্ষ বাড়িতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
প্রশাসনিক কাজে জোর, বিডিওদের বার্তা
জেলাশাসকদের কাজের প্রশংসা করলেও কয়েকজন বিডিওর ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, জেলার প্রশাসনিক স্তরে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কাজ এগোলেও কিছু আধিকারিকের মধ্যে এখনও ধীরগতি রয়েছে। দ্রুত সেই জড়তা কাটিয়ে উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে এসআইআর, সিএএ এবং সরকারি প্রকল্পে যোগ্য উপভোক্তা বাছাই নিয়েও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, যোগ্য মানুষ যাতে সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়টি প্রশাসনকে নিশ্চিত করতে হবে।
বাঁকুড়ার বৈঠক থেকে পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নকে আরও গতি দেওয়ার বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি আগামী কয়েক মাসের মধ্যে একাধিক প্রকল্পের কাজ শুরু করার ইঙ্গিত দিয়েছে রাজ্য সরকার।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0