পাকিস্তানি জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ, বেঙ্গালুরু থেকে গ্রেফতার বাদুড়িয়ার যুবক
পাকিস্তানের জঙ্গিগোষ্ঠী TTP-এর সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগে বেঙ্গালুরু থেকে বাদুড়িয়ার যুবক আশরাফুল মালিককে গ্রেফতার করেছে STF ও কর্নাটক পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য।
পাকিস্তানের নিষিদ্ধ জঙ্গিগোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (TTP)-এর সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগে বেঙ্গালুরু থেকে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতের নাম আশরাফুল মালিক (২৫)। তাঁর বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়া এলাকায়। রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF) এবং কর্নাটক পুলিশের যৌথ অভিযানে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক সন্দেহ, বেঙ্গালুরুতে বসে অনলাইনে TTP-র সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন আশরাফুল। সংগঠনটির বিভিন্ন কার্যকলাপের সঙ্গেও তাঁর যোগ ছিল বলে অভিযোগ। এই গ্রেফতারির পর ফের সামনে এল বাংলার সঙ্গে জঙ্গি নেটওয়ার্কের সম্ভাব্য যোগাযোগ।
বেঙ্গালুরুতে নিরাপত্তারক্ষীর কাজ
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বাদুড়িয়ার যশাইকাটি আটঘরা গ্রাম পঞ্চায়েতের নোয়াপাড়ায় বাড়ি আশরাফুলের। ২০২৫ সাল থেকে বেঙ্গালুরুর একটি সংস্থায় নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে কাজ করছিলেন তিনি। কর্মসূত্রে বেঙ্গালুরুতে থাকলেও সেখান থেকেই অনলাইনে TTP-র সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের অনুমান।
আশরাফুলের অনলাইন গতিবিধি এবং বিভিন্ন যোগাযোগ খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। কীভাবে তাঁর সঙ্গে পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠনের যোগাযোগ তৈরি হয়েছিল, সেই বিষয়টিও জানার চেষ্টা চলছে।
আফগানিস্তানে যাওয়ার পরিকল্পনার তথ্য
তদন্তে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। আশরাফুল আফগানিস্তানের ভিসার জন্য আবেদন করেছিলেন। পাসপোর্ট এবং ভিসা পাওয়ার পরও শেষ পর্যন্ত আফগানিস্তানে যেতে পারেননি তিনি। আর্থিক সমস্যা এবং পরিবারের প্রতি দায়িত্বের কারণেই তাঁর সেই যাত্রা আটকে যায় বলে তদন্তকারীদের দাবি।
কেন আফগানিস্তানে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, সেখানে কার সঙ্গে যোগাযোগ করার কথা ছিল এবং এই পরিকল্পনার সঙ্গে TTP-র কোনও যোগ রয়েছে কি না—সবই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ফোনে মিলেছে গুরুত্বপূর্ণ অডিও?
তদন্তকারীদের হাতে আশরাফুলের ফোন থেকে একটি অডিও রেকর্ডিং এসেছে বলেও সূত্রের দাবি। সেখানে ‘হায়দার’ নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর কথোপকথনের তথ্য পাওয়া গিয়েছে। পাকিস্তান সেনার উপর হামলার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল কি না, সেই বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
পুলিশ ওই মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করেছে। ফোনের কল রেকর্ড, মেসেজ, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট এবং অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওই ‘হায়দার’-এর পরিচয় এবং আশরাফুলের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কও জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
পাকিস্তান সেনা নিয়ে ক্ষোভের দাবি
কর্নাটক পুলিশের এক আধিকারিকের বক্তব্য উদ্ধৃত করে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান সেনার ভূমিকা নিয়ে আশরাফুলের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। ইজরায়েল-প্যালেস্টাইন সংঘাত নিয়েও তাঁর নির্দিষ্ট কিছু মতামত ছিল বলে জানা গিয়েছে।
তবে তদন্তকারীরা যে সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করেছেন, সেগুলির সত্যতা এবং অভিযোগের পূর্ণ পরিধি এখনও যাচাই করা হচ্ছে। গ্রেফতার হওয়া যুবকের সঙ্গে কোনও বৃহত্তর জঙ্গি নেটওয়ার্কের সরাসরি যোগাযোগ ছিল কি না, সেটিই এখন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
বাংলার সঙ্গে জঙ্গি-যোগ নিয়ে ফের চাঞ্চল্য
আশরাফুলের গ্রেফতারির পাশাপাশি একই সময়ে কোচবিহারের দিনহাটা এলাকা থেকে আরও তিনজনকে STF গ্রেফতার করেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা ISI-এর হয়ে কাজ করার অভিযোগ রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। এর আগে বনগাঁ সীমান্তের কাছ থেকেও পাকিস্তানের এক নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
পরপর এই গ্রেফতারির ঘটনায় বাংলার সীমান্তবর্তী অঞ্চল এবং রাজ্যের বাসিন্দাদের সঙ্গে পাকিস্তানি গুপ্তচর বা জঙ্গি নেটওয়ার্কের সম্ভাব্য যোগাযোগ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে পৃথক ঘটনাগুলির মধ্যে সরাসরি কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
বেঙ্গালুরুর হেব্বাগড়ি থানায় আশরাফুলের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি এই নেটওয়ার্কে আরও কারা যুক্ত রয়েছে, তাঁদের সন্ধানেও তদন্তকারীরা তল্লাশি চালাচ্ছেন।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0