দুইয়ের বেশি সন্তান নিয়ে উদ্বেগ স্বাস্থ্য দফতরের, নাবালিকা বিয়ে ও টিনএজ প্রেগন্যান্সি নিয়েও কড়া নজর

নাবালিকা বিয়ে, টিনএজ প্রেগন্যান্সি ও একাধিক সন্তানের জন্মের প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ স্বাস্থ্য দফতরের। ১০০ দিনের কাজে একাধিক স্বাস্থ্য পরিকল্পনার ঘোষণা।

Aug 18, 2026 - 10:48
 0  4
দুইয়ের বেশি সন্তান নিয়ে উদ্বেগ স্বাস্থ্য দফতরের, নাবালিকা বিয়ে ও টিনএজ প্রেগন্যান্সি নিয়েও কড়া নজর

রাজ্যের কয়েকটি জেলার নির্দিষ্ট এলাকায় নাবালিকা বিয়ে, কিশোরী বয়সে গর্ভধারণ এবং পরিবারে একাধিক সন্তানের জন্মের প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করল স্বাস্থ্য দফতর। নতুন সরকারের ১০০ দিনের কাজের খতিয়ান তুলে ধরতে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, দম্পতি পিছু দুইয়ের বেশি সন্তান স্বাস্থ্যগত দিক থেকে কাম্য নয়। তবে দুইয়ের বেশি সন্তান রুখতে সরকার কোনও নতুন আইন আনছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানাননি তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, মালদা, মুর্শিদাবাদ, উত্তরবঙ্গের কিছু এলাকা এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের কয়েকটি ব্লকে নাবালিকা বিয়ে, টিনএজ প্রেগন্যান্সি এবং একাধিক সন্তানের জন্মের প্রবণতা রয়েছে। বিশেষ করে সূতি ও শামসেরগঞ্জের মতো এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য দফতর উদ্বিগ্ন।

মাতৃমৃত্যুর কারণ বিশ্লেষণে উঠে এসেছে বিষয়গুলি

প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনা পর্যালোচনা করতে গিয়ে স্বাস্থ্য দফতর এই তিনটি বিষয়কে গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে বলে জানান মন্ত্রী। তাঁর মতে, অল্প বয়সে বিয়ে, কিশোরী বয়সে গর্ভধারণ এবং পরপর একাধিক সন্তান জন্ম দেওয়া মহিলাদের স্বাস্থ্যের উপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।

এই প্রবণতা রুখতে শুধু স্বাস্থ্য দফতর নয়, প্রশাসনের অন্যান্য স্তরকেও যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের বিষয়ে বিভিন্ন জেলার পুলিশ সুপারদের সঙ্গেও আলোচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বাড়ছে আয়ুষ পরিষেবা

১০০ দিনের কাজের হিসাব তুলে ধরার সময় স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে আরও একাধিক পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র, কমিউনিটি হেলথ সেন্টার এবং জেলা হাসপাতালগুলিতে অ্যালোপ্যাথির পাশাপাশি আয়ুষ চিকিৎসার পরিষেবা একই জায়গায় দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এই ‘কো-লোকেশন’ ব্যবস্থায় রোগীরা প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যালোপ্যাথি, আয়ুর্বেদ বা হোমিয়োপ্যাথি চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারবেন। পরিষেবা সম্প্রসারণের জন্য ৪৮৪ জন আয়ুষ মেডিক্যাল অফিসার নিয়োগের কথাও জানানো হয়েছে।

আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে আরও পরিবার

রাজ্যে আয়ুষ্মান ভারত পরিষেবা চালুর কথাও তুলে ধরেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১.৪৩ কোটি পরিবার অর্থাৎ প্রায় ৫.৯৭ কোটি মানুষ সুবিধা পাবেন। মোট ১,৯৩০টি হাসপাতালকে এই ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনার মাধ্যমে আরও প্রায় ৮০ লক্ষ মানুষকে স্বাস্থ্য পরিষেবার আওতায় নিয়ে আসার কথা জানানো হয়েছে।

নতুন মেডিক্যাল কলেজ তৈরির পরিকল্পনা

রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো আরও সম্প্রসারণের জন্য আলিপুরদুয়ার, সিউড়ি, শিলিগুড়ি, আসানসোল ও কালিম্পংয়ে পাঁচটি নতুন মেডিক্যাল কলেজ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। কলকাতাতেও আরও একটি মেডিক্যাল কলেজ গড়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মন্ত্রী।

১০০ দিনের মধ্যে রাজ্যে মোট ৯৭৫টি এমবিবিএস আসন বাড়ানো হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৭৫টি আসন সরকারি ক্ষেত্রে যুক্ত হয়েছে।

সরকারি হাসপাতালে বেড না মিললে বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা

সরকারি হাসপাতালে বেডের ঘাটতির কারণে যাতে কোনও রোগী চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন, সেই লক্ষ্যে বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে সমন্বয় করে রোগী ভর্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই ব্যবস্থায় ইতিমধ্যে বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে ২,৪২৬টি বেডের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে স্বাস্থ্য দফতরের দাবি।

এই ব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই করতে এসএসকেএম থেকে যাদবপুরের কেপিসি মেডিক্যাল কলেজে রোগী স্থানান্তরের একটি মক ড্রিলও করা হয়েছে। ভবিষ্যতে অন্যান্য মেডিক্যাল কলেজেও একই ধরনের মহড়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

হাসপাতাল পরিষেবায় আরও একাধিক ঘোষণা

স্বাস্থ্য দফতরের ১০০ দিনের পরিকল্পনায় হাসপাতালের খাবারের জন্য বরাদ্দ বাড়ানোর কথাও জানানো হয়েছে। রোগী ও পরিজনদের খাবারের জন্য বরাদ্দ ৫৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১০ টাকা করার সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়েছে।

এর পাশাপাশি ২৪ ঘণ্টার ইন্টিগ্রেটেড কন্ট্রোল রুম, ২০০টি ১০২ অ্যাম্বুল্যান্স এবং ৩১০টি মোবাইল মেডিক্যাল ইউনিট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ২০০টি মোবাইল মেডিক্যাল ইউনিট ইতিমধ্যেই কাজ করছে বলে জানানো হয়েছে।

HPV টিকাকরণ থেকে TB-মুক্ত ভারত

জরায়ুমুখের ক্যান্সার প্রতিরোধে কিশোরীদের HPV টিকাকরণ, যক্ষ্মামুক্ত ভারত কর্মসূচি এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার বিকেন্দ্রীকরণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও রাজ্যে ৪৫৮টি জনঔষধি কেন্দ্র এবং ১০০টি অমৃত ফার্মেসি চালুর কথা জানানো হয়েছে। ব্লক স্তরে রক্ত পরীক্ষা, এক্স-রে এবং আলট্রাসোনোগ্রাফির মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

স্বাস্থ্য দফতরের বক্তব্য, পরিকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি মাতৃস্বাস্থ্য, কিশোরীদের স্বাস্থ্য এবং প্রাথমিক চিকিৎসা পরিষেবাকে আরও শক্তিশালী করাই আগামী দিনের অন্যতম লক্ষ্য।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0